নিজস্ব সংবাদদাতা-
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ও কনকনে ঠান্ডায় কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে শীত। জেলায় আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের ।
চারদিক ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। শীতের হিমেল বাতাসে কাঁপছে জনজীবন। ১১ টার পর সূর্যের দেখা মিললেও বাতাসের কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারছে না।
সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে, যেন এখনও ভোরের অন্ধকার কাটেনি। পথচারীরা গাঢ় শীতের কাপড় জড়িয়ে দ্রুত পা বাড়াচ্ছেন নিজেদের গন্তব্যে। ঘন কুয়াশার কারণে জেলার নৌ-ঘাট গুলো থেকে সকালে ৩ ঘন্টা বিলম্বে নৌকা ছেড়েছে।
এই কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। বিশেষ করে দিনমজুরদের জন্য প্রতিটি সকাল শুরু হচ্ছে অনিশ্চয়তায়। কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে অনেকে দেরি করে কাজে যাওয়ায় কাজ মিলছে না।
ফলে সকাল থেকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছেন অনেকেই।
শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন উলিপুরের দিনমজুর মহুবর আলী। ঠান্ডায় লাল হয়ে যাওয়া হাত দুটো গুঁজে রেখেছেন পকেটে। কথা বলতে গেলে তিনি জানান,'গতকাল সকাল থাকি খুব ঠান্ডা। হাত- পাও ঠান্ডাতে শিষ্টা(অবশ) নাগছে(হয়েছে)। কাজত দেরি করি যাওয়া নাগে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েকদিন ধরে এমন আবহাওয়া বিরাজ করছে। সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে বলেও জানাচ্ছেন অনেকে।
জেলা সদরের হাটির পাড়ের বাসিন্দা মুকুল দাস বলেন'আমার ছোট ছেলেটা গতকাল থেকে ঠান্ডাজনিত সর্দিতে অসুস্থ। হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছি।'
স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, কুড়িগ্রামে আজ সকাল ৬ টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস । বাতাসের জলীয় বাষ্পের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ। শীতের এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন থাকতে পারে।


0 মন্তব্যসমূহ
মার্জিত মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হল।