
নিজস্ব সংবাদদাতা-
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মো.আলী টসা নামের ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার (৩০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পদ্মচর মন্ডলপাড়া গ্রামে।
এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কথা উপেক্ষা করে ভোর রাতে তড়িৎ গতিতে শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল করিম, স্থানীয় জোরদার মো.কাশেম,স্থানীয় মৌলভী ও ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মোল্লার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান,গত রোববার বিকালে মেয়েটি অভিযুক্ত আলী টসার দোকানে ডিম আনতে যান। এসময় ওই বৃদ্ধা মেয়েটির হাত ধরে টানাটানি করলে মেয়েটি চিৎকার দেয়। পরে এ ঘটনাটি শালিশী বৈঠকে মিমাংসা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয় । আমরা জানি আলী টসা পাগল প্রকৃতির। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রংপুরে থাকায় শালিশের তারিখটি পেছানোর কথা বলা হলেও পরে তাড়াহুড়া করে ঈদের পরের দিন বুধবার ভোর ৫ টার দিকে বিচার কাজ শেষ করেন ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল করিম, স্থানীয় জোরদার মো.কাশেম,স্থানীয় মৌলভী ও ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মোল্লা।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান,পদ্মাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জন সম্মুখে বিচার করবেন বলে কথা হয়েছিলো , পরে ঈদের পরের দিন এলাকাবাসি সবাই স্কুল মাঠে যায় ওখানে স্থানীয় মহৎ ব্যক্তিবর্গ জানান,ইউনিয়নের চেয়ারম্যান না থাকার অভিযোগে সেদিনের বিচার পরের দিন বুধবার দুপুর ২ ঘটিকায় সেই বিদ্যালয়ের মাঠে করবেন । কিন্তু দুপুর ২টায় বিচার কাজ না করে সেদিনের রাতে চুপি চুপি বিচার শেষ করে দেন মাতব্বররা।’
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্থানীয় মাতব্বরদের হামলায় ৩ যুবক আহত হন। আহতরা হলেন,মো. কামরুল,মো. লুৎফর ও মো. জাহিদুল। তারা জানান, একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে কৌশলে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বিচারের দাবি করেছিলাম,যার কারণে মেম্বারদের লোকজন আমাদের মারধর করেছে।’
শালিশী বৈঠকের বিষয়ে জানতে মেয়ের বাবা মোগল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন,’মেয়েটির সাথে রেফের ঘটনা ঘটেনি। তার শরীরে এমন কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি। তাই আমরা স্থানীয়রা বসে বিষয়টি মিমাংশা করে দিয়েছি।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন,’আমি রংপুরে অবস্থান করছি। অভিযুক্ত আলী মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তাদের আত্মীয়। আমি মিমাংসার বিষয়টি পেছাতে বলেছি,তারা আমার কথা শোনেনি।’
অভিযুক্ত আলী টসা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.নাজমুল হাসান বলেন,’ এটি একটি দুর্গম এলাকা। মেয়েটির সাথো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি,মূলত এটা ইভটিজিং। আমরা মেয়ের বাবাকে বলেছি অভিযোগ দিতে মেয়ের বাবা অভিযোগ দেয়নি। পরে শুনেছি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে।’
0 মন্তব্যসমূহ
মার্জিত মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হল।