নিজস্ব সংবাদদাতা-
কুড়িগ্রামে বাক-বিতন্ডার জেরে সাবেক ওর্য়াড আ.লীগ নেতা রুকু মিয়াকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যুবদলের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ।
গত ১৬ এপ্রিল (বুধবার) বিকেলে জেলা শহরের আরডিআরএস বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রুকু মিয়া (৫৫) সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের মৃত উমর আলীর ছেলে। তিনি ২০০৮ সালে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
গুরুতর আহত রুকু মিয়া বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রুকু মিয়ার স্বজনরা জানান,’গত ১১ এপ্রিল(শুক্রবার) এলাকার প্রতিবেশী হুসেইন ড্রাইভারের ছেলে মো.সেতু কচাকাটায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যেতে চাইনি। তাকে জোর করে ঠিকাদার মো.রকি নিয়ে যান কাজে। সেদিন সন্ধায় তার বিদ্যুৎ শকে মারা যাওয়ার খবর শুনেন। মারা যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক দাবি করে এলাকার লোকজন রাত ১০ টার দিকে একটি শালিশী বৈঠকের আয়োজন করে। সেই বৈঠকে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমানের সাথে বাক-বিতন্ডা হয় রুকু মিয়ার। এক পর্যায়ে মাহবুবুর রহমানের সাথে থাকা তার সমর্থক আইনুল,রাশেদ, সাজ্জাদ, আরিফসহ অনেকে তেড়ে আসেন রুকু মিয়াকে মারার জন্য। এর আগেও এই স্থানীয় যুবকদের সাথে রুকু মিয়ার জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে গত ১৬ এপ্রিল বুধবার দুপুর ২টার দিকে আইনুল,রাশেদসহ কয়েকজন রুকু মিয়ার চায়ের দোকানে পাইপ দিয়ে মারধর করেন এবং পরে বেকি দা দিয়ে কোপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রুকু মিয়ার সঙ্গে থাকা তার চাচা হাসান আলী বলেন,’বিএনপি ক্ষমতায় না আসতে তাদের সমর্থের ছেলেরা যা শুরু করছে এটা মানার মতো নয়। শালিসী বৈঠকের জের ধরে গতকাল যুবদল করা ছেলেরা রুকু মিয়াকে মারধর করে বেকি দা দিয়ে গুরুতর জখম করে।’
রুকু মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন,’আমার স্বামী কোন রাজনীতি করে না। তাও বিএনপির ছেলেরা তাকে কোপাইছে আমি এর বিচার চাই। তারা আবারো কোপানোর হুমকি দিছে।
আহত রুকু মিয়া বলেন,’আমি ২০০৮ সালে আমার ওর্য়াডের আ.লীগের. প্রচার সম্পাদক ছিলাম। তারপর আর কোন পদ-পদবীতে নাই। শুক্রবার শালিশী বৈঠকের রেশ ধরে মাহবুবুরের লোকজন আমাকে মারর করে বেকি দা দিয়ে কুপিয়েছে।’
থানায় মামলা বা অভিযোগ করেন নি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে না তিনি বলেন,’অভিযোগ করি কি হবে, কোন বিচার তো হবে না। সোগ ওমারে লোকজন। আমি একটু সুস্থ হই তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক কোন কারনে সাবেক এ আ.লীগ নেতাকে মারধর করা হয়নি। এ ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তাদের জমি-জমার বিষয়ে স্থানীয় ওই যুবকদের সাথে রেশ । তার জেরে হয়তো এমন ঘটনা।’
তিনি আরো বলেন,’আমি কোনো সন্ত্রাসী লালন করি না। সন্ত্রাসী কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থনও করি না। তারা যুবদলের সমর্থক হলে যুবদল বিষয়টি দেখবে।’
আহত রুকু মিয়ার ছেলে নুর আলম বলেন, বাজারে নিজেদের দোকানে তিনি ও তার বাবা বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক অতর্কিত বেকি ও রামদা হাতে নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা করে। তার বাবাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এ সময় আটকানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকেও বেদম মারধর করেন।
এ বিষয়ে জানতে জেলা যুবদল সভাপতি রায়হান কবির ও সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।’
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘এমন কোনো খবর আমি শুনিনি। কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


0 মন্তব্যসমূহ
মার্জিত মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হল।