খবর

6/random/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি'


নাগেশ্বরী সংবাদদাতা-

হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গি-আর গ্রামের সহজ-সরল ভাষায় এলাকার সমস্যা তুলে ধরে ‘লাইভ’ আদলে ভিডিও তৈরি করছেন তাইজুল ইসলাম তাজু। পরে সেসব কন্টেন্ট নিজের ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করতেই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে পড়েন তিনি। তবে ভাইরাল হলেও বদলায়নি তার জীবনের বাস্তবতা,পিছু ছাড়েনি অভাব-অনটন ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সরকার পাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা তাজু পেশায় একজন রাজমিস্ত্রীর সহকারী। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন তিনি। গত ঈদে বাড়িতে এসে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে হঠাৎ করেই ‘জিলাপির সরকারি দাম’ নিয়ে মজার ছলে একটি ভিডিও তৈরি করেন। সেই ভিডিওই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এরপর থেকে গ্রামের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একের পর এক ভিডিও তৈরি করতে থাকেন তিনি। তার সরল উপস্থাপনা ও আবেগঘন বক্তব্য মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। স্থানীয়রাও এতে খুশি।

এদিকে অভাবের সংসারে টিকতে পারেনি তার দাম্পত্য জীবন। অসুস্থ বাবা-মা ও দুই ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করে আসছেন তাজু। মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন দিয়েই ভিডিও তৈরি করে নিজের জীবন সংগ্রামের কথাও তুলে ধরতেন তিনি।

স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন নামের একজন বলেন, তাজু আমাদের এলাকার গর্ব। ওর সরলতা আর প্রতিভাকে সম্মান করা উচিত। কেউ যেন তাকে নিয়ে ট্রোল না করে, বরং সবাই তার পাশে দাঁড়ালে সে উপক্রিত হবে। খুব সহজ ভাষায় আমাদের এলাকার কথা বলে। তাই মানুষ পছন্দ করে, ভাইরালও হয়েছে।

তাইজুল ইসলাম তাজু বলেন,'আমি সাংবাদিক না,আমাকে সাংবাদিক বলবেন না। আমার এলাকায় কোন সাংবাদিক আসে না,তাই আমি ভিডিও করি। মানুষ ভালোবাসা দিছে, ভিডিও ভাইরাল হইছে। কিন্তু আমার তো এখনো কষ্টই কমে নাই। পেইজে আয় নাই, সংসার চালানো কষ্ট হয়। চিন্তা করছি, আবারও ঢাকা গিয়ে কাজ করবো, কাজ না করলে তো আর ভাত জুটবে না পরিবারে।'

তিনি আরো বলেন,'পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমার যখন মন খারাপ থাকে তখন ভিডিও গুলা দেখি মন ভালো হয়। আমার মন যা চায় আমি তাই ভিডিও করি।'

স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাজুর পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে তার এই অর্জনকে সম্মান জানিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি।

চারদিকে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল নাগেশ্বরীর এই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ ও তাহেরা দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় সন্তান তাইজুল ইসলাম তাজু। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও নিজের প্রচেষ্টায় সামাজিক মাধ্যমে জায়গা করে নেওয়া এই তরুণ এখন মানুষের ভালোবাসাকেই শক্তি হিসেবে দেখছেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ